অনুগল্প সমগ্র-
১.মইনের বাসার বারান্দাটা বেশ বড়, প্লাস্টিকের একটা মোড়ায় বসে সুন্দর আকাশ দেখা যায়। ইদানিং এখানে বৃষ্টি হচ্ছে খুব সারাবেলা। বারান্দায় বসে হাজার রকম ইচ্ছা-অনিচ্ছার ছবি আঁকে মইন। সামনের ছয় তলার বারান্দার তারে ঝুলিয়ে রাখা কাপড়ের মালিকিনকে দেখতে ইচ্ছে হয় তার। কিন্তু কখন যে কাপড় দিয়ে যায় আর কখন নিয়ে যায় টের পায়না মইন। কিংবা তিন তলার সেই নিঃসঙ্গ তরুণীটির সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করে যে কিনা অলস বিকেলটা একমনে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। জানতে ইচ্ছে করে তার বিষণ্ণতার কারণ। এই ইচ্ছেটাও অনিচ্ছায় রূপ নেয় যখন তরুণীর বাচ্চাটি হঠাৎ পেছন থেকে এসে দু হাত দিয়ে চোখ ধরে বসে মায়ের। মইন ইচ্ছে বদলিয়ে ভাবার চেষ্টা করে সেই মেয়েটির কথা, যে তার বারান্দার দরজা অল্প একটু খুলে দ্রুত ওড়নাটি নিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয়, আর খানিকক্ষণ বাদে লাইট বন্ধ করে জানালার পর্দার ফাঁকে খুঁজতে থাকে। তখন মইনের চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে হয়, এই যে আপনি লজ্জা পাবেন না, আমি আপনার কোন দেহ আবয়ব দেখিনি। শুধু বুঝতে পেরেছি আপনি কম সময়ে ওড়নাটি নিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন। আপনার কোন দোষ নেই। আড়াল থেকে আমাকে দেখার কিছু নেই। দেখতে হলে দরজা খুলে বারান্দায় আসুন। রাতে ইলেক্ট্রিসিটি যখন চলে যায় কারো সাথে বাসার নিচের রাস্তায় হাঁটতে ইচ্ছে করে তার। ওপাশের বিল্ডিং এর থলথলে শরীরের বাল্য বন্ধু ইশতিয়াকের কথাও ভাবতে ইচ্ছে করে। ব্লেড দিয়ে বন্ধুকে খুন করার কথা প্রায়ই ভাবে সে। এককালের সমাজতন্ত্র বলতে বলতে শাহবাগ চত্বরে মুখে ফেনা তুলে ফেলা ইশতিয়াক আজ পুঁজিবাদী কর্পোরেট সমাজের অধিপতি, তাই? না। শিরিনের কথা মনে করতে চায় না মইন। তারচেয়ে সামনের ছয় তলার বারান্দার তারে ঝুলিয়ে রাখা কাপড়ের মালিকিনকে দেখতে ইচ্ছে হয় তার।
১.মইনের বাসার বারান্দাটা বেশ বড়, প্লাস্টিকের একটা মোড়ায় বসে সুন্দর আকাশ দেখা যায়। ইদানিং এখানে বৃষ্টি হচ্ছে খুব সারাবেলা। বারান্দায় বসে হাজার রকম ইচ্ছা-অনিচ্ছার ছবি আঁকে মইন। সামনের ছয় তলার বারান্দার তারে ঝুলিয়ে রাখা কাপড়ের মালিকিনকে দেখতে ইচ্ছে হয় তার। কিন্তু কখন যে কাপড় দিয়ে যায় আর কখন নিয়ে যায় টের পায়না মইন। কিংবা তিন তলার সেই নিঃসঙ্গ তরুণীটির সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করে যে কিনা অলস বিকেলটা একমনে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। জানতে ইচ্ছে করে তার বিষণ্ণতার কারণ। এই ইচ্ছেটাও অনিচ্ছায় রূপ নেয় যখন তরুণীর বাচ্চাটি হঠাৎ পেছন থেকে এসে দু হাত দিয়ে চোখ ধরে বসে মায়ের। মইন ইচ্ছে বদলিয়ে ভাবার চেষ্টা করে সেই মেয়েটির কথা, যে তার বারান্দার দরজা অল্প একটু খুলে দ্রুত ওড়নাটি নিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয়, আর খানিকক্ষণ বাদে লাইট বন্ধ করে জানালার পর্দার ফাঁকে খুঁজতে থাকে। তখন মইনের চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে হয়, এই যে আপনি লজ্জা পাবেন না, আমি আপনার কোন দেহ আবয়ব দেখিনি। শুধু বুঝতে পেরেছি আপনি কম সময়ে ওড়নাটি নিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন। আপনার কোন দোষ নেই। আড়াল থেকে আমাকে দেখার কিছু নেই। দেখতে হলে দরজা খুলে বারান্দায় আসুন। রাতে ইলেক্ট্রিসিটি যখন চলে যায় কারো সাথে বাসার নিচের রাস্তায় হাঁটতে ইচ্ছে করে তার। ওপাশের বিল্ডিং এর থলথলে শরীরের বাল্য বন্ধু ইশতিয়াকের কথাও ভাবতে ইচ্ছে করে। ব্লেড দিয়ে বন্ধুকে খুন করার কথা প্রায়ই ভাবে সে। এককালের সমাজতন্ত্র বলতে বলতে শাহবাগ চত্বরে মুখে ফেনা তুলে ফেলা ইশতিয়াক আজ পুঁজিবাদী কর্পোরেট সমাজের অধিপতি, তাই? না। শিরিনের কথা মনে করতে চায় না মইন। তারচেয়ে সামনের ছয় তলার বারান্দার তারে ঝুলিয়ে রাখা কাপড়ের মালিকিনকে দেখতে ইচ্ছে হয় তার।