সুমাইয়া আদ্রিত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সুমাইয়া আদ্রিত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

৩১ অক্টোবর ২০১২

সুমাইয়া আদ্রিত

অব্যক্ত অনুভূতি

প্রতিটি মানুষেরই হয়্ত নিজস্ব একটা জগত থাকে। আমার বেলাতেও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। আমারও একটা নিজস্ব জগত আছে। কিংবা ছিল ! আমার জগতটি গড়ে উঠেছিল তাকে কেন্দ্র করে। তার  প্রতিটি আচরণই  অতিমাত্রায় ভাল লাগতো আমার । যা  সবার কাছে হয়্ত ছিল ন্যাকামো কিংবা পাগলামীর চূড়ান্ত । কিন্তু আমার কাছে সেগুলো  ছিল সবচেয়ে প্রিয় । গলির ভেতর থেকে খুজে পাওয়া  বৃষ্টিতে ভেজা জরাজীর্ণ  বিড়াল  ছানাটিকে নিয়ে যখন হুল্স্থুল কান্ড বাঁধিয়ে  দিত সে , তখন তা সবার কাছে বিরক্তিকর হলেও  আমার কাছে তা ছিল খুবই  আনন্দের একটা ব্যাপার । খালি পায়ে হিমু বেশে রাতের রাস্তায় যখন সে  হেঁটে বেড়াত , তখন তার সঙ্গী হওয়ার ইচ্ছেটাকে খুব কষ্টে দমন করতাম । রাস্তার ছোট ছেলেমেয়েগুলো যারা তার কাছে ছিল " স্পেশাল কিডস " তাদের মাঝে বিক্ষিপ্ত  আনন্দ বিতরণ করে যে আনন্দটা সে পেত  তার ভাগ নিতে বড্ড ইচ্ছে করতো । জন্মদিনগুলোই  সবার আগে এসে যখন  ঘুম ভাঙিয়ে চিৎকার করে বলতো  -'শুভ জন্মদিন্' তখন যেন  সবচেয়ে বড় উপহারটা  পাওয়া  হয়ে যেজ। তার লিখা কবিতাগুলোর একমাত্র  পাঠক বোধ্হয়  আমি-ই  ছিলাম । যা  আমার কাছে ছিল গুপ্তধনের মত । একদিন জানতে পারলাম  এই হাস্যজ্বল  প্রানবন্ত মানুষটি  কর্কটক্রান্তিদের এক্জন। সেদিন আমার পৃথিবীর  একটা অংশ যেন অবশ হয়ে  গিয়েছিল।

আজ সে নেই। এই ক'দিন  হল কর্কটক্রান্তি  রেখার মাঝে হারিয়ে গিয়েছে সে । তবুও  ভুলতে পারিনা  তাকে।।। প্রতিটি  মুহুর্তে তার অদৃশ্য  উপস্থিতি অনুভব করি। মনে হয় এই হয়্ত কোন বেড়াল ছানা  নিয়ে হাজির হবে। কিংবা হাতটা ধরে বলবে , 'চল  বৃষ্টিতে ভিজি । ঠাণ্ডা  লাগলে  সব দোষ তোর ।। প্রতি রাতেই জানালার ধারে বসে অপেক্ষা করি  এই হয়্ত চুপিসারে আসবে আমার কাছে সে । তারপর  তার ভুবন ভুলানো  হাসিতে হেসে বলবে ,''একেবারেই ভুলে  গিয়েছিস তোর  দা-ভাইকে?'"